ইসমাইলুল করিম :লামা প্রতিনিধি :বান্দরবান পার্বত্য জেলা লামায় ফাইতং ইউনিয়ন পার্শ্ববর্তী চকরিয়ার বানিয়ার ছড়া লরি ভ্যানের গাড়ি ধাক্কায় হাফেজ মো. জসিম উদ্দিন হুজুর (৫৫) এক দোকান সওদাগর নিহত হয়েছেন। বুধবার (৩০ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৩০মিনিট সময় বানিয়ার ছড়া দোকান বন্ধ করে অবস্থায় লরি ভ্যানের গাড়ি ধাক্কায় তরতাজা প্রাণ গেলো হাফেজ মো. জসিম উদ্দিন এর দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হাফেজ মো.জসিম উদ্দিন লামায় ফাইতং ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড নয়াপাড়া গ্রামের মৃত্যু আবু কালাম একমাত্র ছেলে। মৃত্যু কালে তিনি স্ত্রী ও ২টি ছেলে ২টি মেয়ে রেখে জান। আর পেশায় তিনি ১৭ বছর ইমামতি করে নয়াপাড়া জামে মসজিদ ও ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ি’তে ইমাম এবং দীর্ঘদিন পর্যন্ত বানিয়ার ছড়া আবু সুফিয়ান কুলিং কর্ণার নামে সওদাগর হিসেবে ছোট বড় সবার কাছে সু-পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি।
জানা গেছে, নিহত হাফিজ মো. জসিম উদ্দিন এক ভাই এক বোন এর মধ্যে তিনি ছোট। খবর পেয়ে সাথে সাথে চকরিয়া এএসপি সার্কেল তফিকুল আলম, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী, ঘটনা স্থানে আসেন রাতে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বানিয়ার ছড়া- চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া জানান, নিজ দোকান সামনে লরি ভ্যানের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কায় পল্লী বিদ্যুৎ দুইটি কোটি ভাঙ্গে গুরুতর আহত হন জসিম হুজুর নামে একব্যক্তি। স্থানীয়রা পরে তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় লরি ভ্যানটি ঘটনা স্থানে জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছেন।
এদিকে, খবর পেয়ে নিহতের এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিহত বড় ছেলে পুলিশ আবু সুফিয়ান বলেন, হাফেজ মো.জসিম উদ্দিন নয়াপাড়া জামে মসজিদ ১৭ বছর ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে পরে বানিয়ার ছড়া একটি আবু সুফিয়ান কুলিং কর্ণার নামে দোকান করে, কিন্তু ঘাতক লরি ভ্যানের ধাক্কায় তরতাজা প্রাণ গেলো। কিন্তু এলাকা মানুষ ও পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়েছি তিনি বানিয়ার ছড়া সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় ফাইতং ৬নং ওয়ার্ড কৃষি জমি মাঠে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, জানাজা নামাজ পড়ান নিহত উস্তাদ হাফেজ মো.হোসাইন আহমদ এবং জানাজা নামাজ অংশ নেন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সর্বদলীয় নেতাকর্মী সহ শত-শত মানুষ।
জানাজা মাঠে এলাকায় প্রতিনিধি ও হাফেজ হুজুর আবেগি কান্নাকাটি করে বক্তব্য বলেন,হে আল্লাহ্ জসিমকে ক্ষমা করুণ এবং তাকে দয়া করুণ, শান্তিতে রাখুন, তার থাকার স্থানটিকে মর্যাদাশীল করুণ, তার কবরকে প্রশস্ত করে দিন। বরফ ও তুষারের শুভ্রতা দিয়ে, তাকে গুনাহ থেকে এমন ভাবে পরিস্কার করে দিন যেভাবে সাদা কাপড় পরিস্কার হয় ময়লা থেকে, তাকে দুনিয়ার বাসস্থানের চেয়ে উত্তম বাসস্থান, পরিবার ও সঙ্গী দান করুন, হে মাবুদ, তাকে জান্নাতে দাখিল করুন, তাকে কবর আর দোজখের আজাব থেকে রক্ষা করুণ উপস্থিত সবার কাছে নিহত জন্য ক্ষমা চান।
নিহত বড় ছেলে পুলিশ আবু সুফিয়ান কান্না জড়িয়ে বলেন, আমার বিশ্বাস আব্বু উঠে জড়িয়ে ধরে বলবে বাবা কান্না করো না, বাবার দেনাপাওনা থাকলে আমার সাথে এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আমার মামা’রা আছে ওনাদের সহযোগিতা নিয়ে পরিশোধ করবো। আজ আমিও বাবা’কে হারিয়েছি। ওপারে ভালো থেকো বাবা। পৃথিবীর সব বাবাদের সালাম, শ্রদ্ধা প্রতিদিন। বাবার জন্য সবার কাছে চাই।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি